ই-বুক ও ই-বুক রিডার কি? ই-বুক ব্যবহারের সুবিধা কি?

ই-বুক কি? (What is E-book in Bengali/Bangla?)

ই-বুক হচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বুক’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি টেক্সট, চিত্র বা উভয় নিয়ে গঠিত। ই-বুক ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা যায়, যা বিভিন্ন ধরনের ই-রিডার দিয়ে পড়া যায়। প্রচলিত রিডারের মধ্যে অ্যামাজন ডটকমের (amazon.com) কিন্ডল (kindle) সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই বই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে (যেমন- স্মার্টফোন, আইপ্যাড, আইফোন, উইন্ডোজ, ম্যাক কম্পিউটার, ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ) পড়া যায়। এছাড়া ই-বুক বিভিন্ন ব্রাউজারের প্লাগইনস দিয়েও পড়া যায়।

 

ই-বুক রিডার কি? (What is E-book Reader in Bengali/Bangla?)

ই-বুকসমূহ যে ফরম্যাটে তৈরি হয় তা সাধারণভাবে পড়ার উপযোগী থাকে না। ই-বুকসমূহ বিশেষভাবে তৈরিকৃত সফটওয়্যারের সাহায্যে পড়তে হয়। আর এই ই-বুক পড়তে যে বিশেষ সফটওয়্যার বা রিডার ব্যবহৃত হয় তা হলো ই-বুক রিডার। ই-বুক রিডারে সহস্রাধিক বই ডাউনলোড করে রাখা যায়। পরবর্তীতে ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো বই ওপেন করে সাধারণ বইয়ের মতো পড়া যায়। বইয়ের মতো এখানে পৃষ্ঠা উল্টানো যায় এবং পৃষ্ঠায় চলে যাওয়া যায়। প্রয়োজনে যেকোনো অনুযায়ী ছবি, ভিডিও, এছাড়াও প্রয়োজন অ্যানিমেশন, অডিও ইত্যাদি ব্যবস্থা জুড়ে দেওয়া যায়। ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

 

ই-বুক কত প্রকার ও কি কি?

বর্তমানে ই-বুকের বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখা যায়। তবে সাধারণভাবে ই-বুককে নিম্নোক্ত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায় :

মুদ্রিত বইয়ের হুবহু প্রতিলিপি। এই ধরনের ই-বুকগুলো মূলত মুদ্রিত বইয়ের মতই হয়ে থাকে।

যে ই-বুকগুলো কেবল অনলাইনে, তথা ইন্টারনেটে পড়া যায়, এগুলো সচরাচর এইচটিএমএল-এ প্রকাশিত হয়। এগুলোকে বই-এর ওয়েবসাইট বলা যায়।

ই-পাব (EPUB) ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়। এসব ই-বুকের কোনো কোনোটি কেবল বিশেষ ডিভাইসে পড়া যায়। যেমন ফিল্ডস বা আইবুক রিডারে পড়ার উপযোগী ই-বকু।

চৌকস ই-বুক। এই বইগুলোতে লিখিত অংশ ছাড়াও অডিও/ভিডিও/এনিমেশন ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে। বইগুলোকে স্মার্ট ই-বুক বলা হয়।

ই-বুকের অ্যাপস। এক্ষেত্রে ই-বুকটি নিজেই একটি অ্যাপস আকারে প্রকাশিত হয়।

 

ই-বুক ব্যবহারের সুবিধা (Advantages of using E-books)

ই-বুকের সুবিধাগুলো হলো–

  • ই-বুক ডাউনলোড করে বা সরাসরি অনলাইনে পড়া যায়।
  • ই-বুক খুব সহজে যেখানে সেখানে নিয়ে যাওয়া যায়।
  • ই-বুকে তথ্য খুঁজে বের করা বেশ সহজ।
  • ই-বুক ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বলে কোন ধরনের শিপিং বা প্যাকিং খরচ নেই।
  • ই-বুক সহজে বিতরণ ও বিক্রয় করা যায়।
  • ই-বুক ছাপানো যায় বলে চাহিদা অনুযায়ী প্রিন্ট করা সম্ভব। এতে খরচ কম হয়।
  • প্রয়োজনীয় অনেক ই-বুক ফ্রিতে পাওয়া যায়।

 

ই-বুক ফরম্যাটঃ

EPUB : সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া ই-বুক ফরম্যাট।

KF8 ও AZW : এই ই-বুক ফরম্যাট বেশি ব্যবহার হয় অ্যামাজন কিন্ডল রিডারে।

BBeB : এই ই-বুক ফরম্যাটটি হলো সনি কর্পোরেশনের। এর এক্সটেনশন হলো .lrf এবং .lrx। সনি কর্পোরেশন এখন EPUB-এ কনভার্ট হচ্ছে।

PDF : এই ই-বুক ফরম্যাটটি তৈরি করেছে অ্যাডোবি সিস্টেম সফটওয়্যার কোম্পানি। পিডিএফ বা পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাট বহুল ব্যবহার হওয়া ই-বুক ফরম্যাট। বহুসংখ্যক ডিভাইস ও ফ্রি সফটওয়্যার দিয়ে এই পিডিএফ ফরম্যাটে ই-বুক পড়া যায়।

ODF : ওপেন ডকুমেন্ট ফরম্যাট। GwU xml-based ফাইল ফরম্যাট। মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প, কার্যকর ও বিনামূল্যে প্রাপ্ত সফটওয়্যার হলো ওপেন অফিস। এই ওপেন অফিসের ফাইল ফরম্যাট হলো ODF।

MOBI : এই ফরম্যাটের ফাইল MobiPocket’s রিডিং সফটওয়্যার দিয়ে পড়া যায়। অন্যান্য থার্ড পার্টি রিডার যেমন: Stanza, FBReader, পিসি ও ম্যাকের জন্য STDU দিয়ে।

 

এ সম্পর্কিত বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তরঃ–

১। E-book এর পূর্ণরূপ কি?

ক) Electric

খ) Electronic বই

গ) Electronic Book

ঘ) E-বই

সঠিক উত্তর : ঘ

২। ই-বুক কোথায় প্রকাশিত হয়?

ক) ই-মেইলে

খ) ইলেকট্রনিক মাধ্যমে

গ) টুইটারে

ঘ) স্যাটেলাইট চ্যানেলে

সঠিক উত্তর : খ

Leave a Comment