নেটওয়ার্কিং ডিভাইস কাকে বলে?

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য একটি কম্পিউটার ছাড়াও আরো অনেক ধরনের ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে একটি কম্পিউটার এর সাথে অন্য এক বা একাধিক কম্পিউটারের সংযোগ করার জন্য যে ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা হয় তাদেরকে নেটওয়ার্কিং ডিভাইস (Networking device) বলে। নেটওয়ার্কিং ডিভাইস হিসেবে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড, মডেম, হাব, সুইচ, রাউটার, গেটওয়ে ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। একটি ভালাে মানের নেটওয়ার্ক ডিজাইনের জন্য এসব ডিভাইসের কাজ ও নিয়মকানুন সম্পর্কে ভালাে ধারণা থাকা দরকার।

১। নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (Network Interface CardCard-NIC) : কোনো কম্পিউটারকে কোনো নেটওয়ার্ক মিডিয়ার সাথে সংযোগ দেয়ার জন্য একটি বিশেষ ইন্টারফেসের দরকার পড়ে। নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড বা ল্যান কার্ড এই ইন্টারফেসের কাজ করে। এটি নেটওয়ার্ক এডাপ্টার এবং LAN কার্ড নামেও পরিচিত। এই নেটওয়ার্ক এডাপ্টার যেকোনো মিডিয়ার জন্য কম্পিউরকে কানেক্ট করার সুযোগ করে দিতে পারে। বিভিন্ন মিডিয়ার জন্য বিভিন্ন নেটওয়ার্ক এডাপ্টার রয়েছে এবং উপযুক্ত কানেক্টর দিয়ে সেসব কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যেতে পারে। কেবল সার্ভার কিংবা ওয়ার্ক স্টেশনেই নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড থাকে তা নয়, প্রিন্টার কিংবা অন্য ডিভাইসেও নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড থাকতে পারে। একটি ডিভাইস আরেকটির সাথে যোগাযোগ করার প্রথম ধাপটিই শুরু হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড থেকে। এটি উৎস এবং গন্তব্য উভয় কম্পিউটারেই বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড ওএসআই রেফারেন্স মডেলের ডেটা লিঙ্ক লেয়ারে কাজ করে। NIC মূলত মডেমের কাজ করে থাকে। এজন্য NIC কার্ডকে ইন্টারনাল মডেমও বলা হয়।

২। সুইচ (Switch) : এটিও হাবের মতোই একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস। তবে হাবের সাথে সুইচের পার্থক্য হলো, সুইচ প্রেরক প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত ডেটা প্রাপক কম্পিউটারের সুনির্দিষ্ট পোর্টটিতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু হাব সুনির্দিষ্ট কম্পিউটারে না পাঠিয়ে সকল কম্পিউটারে পাঠায়। সুইচের দাম হাবের দামের কাছাকাছি বিধায় বর্তমানে বেশির ভাগ ব্যবহারকারী হাবের পরিবর্তে সুইচকে নেটওয়ার্কিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করে। সুইচের ক্ষেত্রে ডেটা আদান-প্রদানে বাধার সম্ভাবনা কম থাকে। সুইচের মাধ্যমে ডেটা কমিউনিকেশনে সময় কম লাগে। এতে হাবের তুলনায় পোর্ট বেশি থাকে। সুইচ একাধিক প্রটোকলের নেটওয়ার্ককেও সংযুক্ত করতে সক্ষম।

৩। রাউটার (Router) : রাউটার হচ্ছে একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যার সাহায্যে একই প্রোটোকল বিশিষ্ট দুই বা ততোধিক স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যায়। এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডেটা পাঠানোর পদ্ধতিকে বলে রাউটিং। যে ডিভাইস রাউটিং-এর কাজে ব্যবহৃত হয় তাকেই রাউটার বলে। ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার জন্য এ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এটি LAN, MAN এবং WAN এ তিন ধরনের নেটওয়ার্কেই কাজ করে। রাউটারের মধ্যে ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা দেওয়া থাকে যা এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে ডেটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততম পথ খুঁজে বের করে। ভিন্ন ধরনের টপোলজির নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার জন্য রাউটার ব্যবহৃত হতে পারে। সিসকো সিস্টেমস-এর রাউটার বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত হয়।

৪। মডেম (Modem) : কম্পিউটারের সাথে টেলিফোনের নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়ার জন্য যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয় তার নাম মডেম। Modulator এর Mo এবং Demodulator এর Dem এই অংশ দুটির সমন্বয়ে Modem শব্দটি তৈরি হয়েছে। মডেম এমন একটি নেটওয়ার্ক যন্ত্র, যা কম্পিউটার হতে প্রাপ্ত ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগনালে রূপান্তরিত করে নেটওয়ার্কে প্রেরণ করে আবার নেটওয়ার্ক হতে প্রাপ্ত অ্যানালগ সিগনালকে ডিজিটাল সিগনালে পরিণত করে কম্পিউটার প্রেরণ করে। মডেম কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কের সংযোগস্থলে অবস্থান করে।

৫। গেটওয়ে (Gateway) : গেটওয়ে ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কসমূহকে যুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। হাব, সুইচ, রাউটার ইত্যাদি ডিভাইস প্রটোকল ট্রান্সলেশনের সুবিধা দেয় না, কিন্তু গেটওয়ে এ সুবিধা দেয়। ভিন্ন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় এটি প্রটোকল ট্রান্সলেশনের কাজ করে থাকে। কাজের ধরন অনুযায়ী গেটওয়েকে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাড্রেস গেটওয়ে, প্রটোকল গেটওয়ে, অ্যাপ্লিকেশন গেটওয়ে ইত্যাদি।

Leave a Comment