হোস্টিং ব্যান্ডউইথ কি? ব্যান্ডউইথ কি কাজে লাগে?

আসসালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছেন। আজকে এই টিউটোরিয়ালে আমি ব্যান্ডইউথ কি এবং কি কাজে লাগে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আমরা অনেকেই জানি না ব্যান্ডউইথ বলতে আসলে কি বোঝায়! তো আপনি আজকের এই পোস্টটি পড়ে ব্যান্ডউইথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

হোস্টিং ব্যান্ডউইথ কি? (What is Hosting Bandwidth in Bangla?)

হোস্টিং ব্যান্ডউইথ হলো আপনার ওয়েবসাইট অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর এবং আপনার যে ইন্টারনেট কানেকশন আছে তার মাঝে ডাটা ট্রান্সফার (Data Transfer) এর পরিমাণ। তো ডাটা ট্রান্সফার আসলে কি? চলুন একটা উদাহরণের সাহায্যে বুঝার চেষ্টা করি।

ধরুন আপনি GP সিম দিয়ে বা জিপি মডেম দিয়ে ইন্টারনেট Use করেন। আপনি আজকে ১GB ইন্টারনেটের প্যাকেজ নিয়েছেন। তার মানে আপনার কাছে ১০২৪ মেগাবাইট ইন্টারনেট আছে। মডেম চালু করার পরপরই সর্বপ্রথম যেকোনো একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট যেমনঃ www.anusoron.com ভিজিট করলেন। ভিজিট করার পর কতটুকু মেগাবাইট অবশিষ্ট আছে সেটি পরীক্ষা করার পর দেখলেন ১ মেগাবাইট ডাটা খরচ হয়েছে, অর্থাৎ এখনও ১০২৩ মেগাবাইট ডাটা অবশিষ্ট রয়েছে। তো এই ১ MB হলো ডাটা ট্রান্সফার।

আশা করছি ডাটা ট্রান্সফার কি বুঝতে পেরেছেন।

এখন চলুন ব্যান্ডউইথ কি একটা উদাহরণের সাহায্যে জেনে নেই।

আমরা বিভিন্ন রেস্তোরায় সাধারণত যেয়ে থাকি। বড় কোনো রেস্তোরায় অনেক বেশি মানুষের একসাথে বসে খাওয়ার সুযোগ থাকে, অর্থাৎ যেমন রেস্তোরার সীমানা বড় হয়, তেমনি টেবিল সংখ্যাও অনেক থাকে এবং টেবিলগুলোও মোটামুটি বড় হয়। এখানে টেবিল বড় হলে বেশি মানুষ একসাথে বসে খাওয়ার সুযোগ পায়। হোস্টিং ব্যান্ডউইথ এর বিষয়টি রেস্তোরার টেবিলের সাথে তুলনা করা যায়। যেমন এখানে টেবিলে বড় হলে এবং বেশি হলে বেশিসংখ্যক মানুষ একসাথে বসে যেমন খাওয়ার সুযোগ পায়, তেমনি হোস্টিং ব্যান্ডউইথ বেশি হলে আপনার ওয়েবসাইট বেশিসংখ্যক মানুষ ভিজিট করতে পারবে।

তাহলে কি ব্যান্ডউইথ বেশি থাকা মানেই বেশি ভিজিটর ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবে?

বিষয়টি অনেকটা এরকমই বলা যায়।

একটা ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কম্পিউটার হার্ডডিস্ক এর মতো হোস্টিং স্পেস যেমন প্রয়োজন হয়, তেমনি ওয়েবসাইট অনলাইনে দৃশ্যমান অর্থাৎ ভিজিটর ভিজিট করলে যাতে ওয়েবসাইট দেখতে পায়, সে জন্য প্রয়োজন হয় হোস্টিং এর ব্যান্ডউইথের। সুতরাং বলা যায়, হোস্টিং ব্যান্ডউইথ ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চলমান (Running) থাকবে না।

 

কতটুকু হোস্টিং ব্যান্ডউইথ নেওয়া উচিৎ:

সাধারণত, সকল ডোমেইন ও হোস্টিং কোম্পানি গুলো তাদের নির্ধারিত প্রতিটি হোস্টিং প্যাকেজের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যান্ডউইথ দিয়ে থাকেন। যেমন: 30 GB Bandwidth, 60 GB Bandwidth, 120 GB Bandwidth ইত্যাদি। তবে হোস্টিং স্পেসের উপর নির্ভর করে ব্যান্ডউইথ এর পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে। এখন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কতুটুকু ব্যান্ডউইথ দরকার তা হিসেব করে যে কোন একটি হোস্টিং প্যাকেজটি কিনে নিবেন। আপনার বোঝার সুবিধার জন্য নিচে একটি হিসাব করে দেখানো হলো। যাতে করে, উক্ত ব্যান্ডউইথ হিসাবটি আপনিও খুব সহজে করতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনার ওয়েবসাইটিতে ৫টি ওয়েবপেজ রয়েছে এবং প্রতিটি ওয়েবপেজের সাইজ ১০০ KB (কিলোবাইট)। এখন ধরা যাক, প্রতিদিন ৫০০ জন ভিজিটর গড়ে ৫টি করে পেজ ভিজিট করে। তাহলে মোট ব্যান্ডউইথ দরকার হবে (৫০০ ভিজিটর × ৫ ওয়েবপেজ × ওয়েবপেজের সাইজ ১০০ KB) টোটাল = ২,৫০,০০০ KB (কিলোবাইট) বা ২৪৪.১৪ MB (মেগাবাইট)। এছাড়া আপনার সাইটটিতে যদি প্রতিদিন কন্টেন্ট আপডেট করতে থাকেন অথবা যে কোন সার্ভিস প্রদান করে থাকলে অবশ্যই ভিজিটর বাড়তে থাকবে। তাই শুরুতেই আপনাকে আনুপাতিক হিসাবের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণ ব্যান্ডউইট কিনতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ভবিষ্যতে কোন কারণে যদি আরো বেশি ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হয় তাহলে কত টাকা মূল্য পরিশোধ করতে হবে সেটা আগে থেকেই জেনে নিবেন। তাছাড়া অনেক কোম্পানি পরে সুযোগ বুঝে দামটা বেশি নিয়ে থাকে। যদিও আজকাল অনেক ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের সার্ভারের Maximum Bandwidth Capacity এবং Loading Speed সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

 

পরিশেষে

আশাকরি উপরের আলোচনা হতে আপনি হোস্টিং ব্যান্ডউইথ কি এবং কি কাজে লাগে? সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর এ বিষয় নিয়ে আপনার মনে যদি কোন প্রশ্ন কিংবা মতামত থেকে থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Comment