লজিক গেইট কাকে বলে? লজিক গেইট কত প্রকার ও কি কি?

গেইট বলতে আমরা সাধারণত বুঝে থাকি যার মাধ্যমে আসা-যাওয়া করা যায় তাকে। তেমনি কম্পিউটারের ভাষায় এক ধরনের গেইট রয়েছে যাকে লজিক গেইট (Logic gate) বলে। আজকের আলোচনার বিষয় লজিক গেইট কি? (What is Logic gate?); লজিক গেইট কত প্রকার ও কি কি?; চলুন তাহলে জেনে যাক।

 

লজিক গেইট কি? (What is Logic Gate in Bengali/Bangla?)

লজিক গেইট হচ্ছে এমন একটি ইলেকট্রনিক সার্কিট (Logic gate is an electronic circuit) যার এক বা একাধিক ইনপুট ও একটিমাত্র আউটপুট থাকে। লজিক একটি ইংরেজি শব্দ। এর অর্থ যুক্তি। সুতরাং যুক্তিনির্ভর যে গেইট তাকে লজিক গেইট বলে। কম্পিউটারের সকল কাজকর্ম করা হয় বুলিয়ান অ্যালজেবরার গাণিতিক অপারেশন দ্বারা। গাণিতিক অপারেশনগুলোকেই লজিক গেইটের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।

বুলিয়ান অ্যালজেবরার গাণিতিক কাজকর্ম ইলেকট্রিক সার্কিটের মাধ্যমে সম্পাদনের জন্য এক বা একাধিক ইলেকট্রিক সার্কিটের সমন্বয়ে তৈরি ডিভাইস যার মাধ্যমে উপর্যুক্ত বৈদ্যুতিক পরিবেশে এক বা একাধিক ইনপুট দিয়ে একটি আউটপুট পাওয়া যায়। প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারে এ গেইটগুলো রিলে (Realy) যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা হতো। আধুনিক আইসি (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট) প্রযুক্তিতে সব রকম ডিজিটাল গেইট আইসি হিসেবে তৈরি করা হয়।

 

লজিক গেইটের প্রকারভেদ (Types of Logic Gates)

লজিক গেইটগুলো তৈরি করা হয়েছে গাণিতিক অপারেশনের উপর ভিত্তি করে। দশমিক পদ্ধতিতে যেমন- যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি গাণিতিক অপারেশন আছে। বুলিয়ান অ্যালজেবরায় তা নেই। বুলিয়ান অ্যালজেবরায় গাণিতিক অপারেশনগুলো সম্পাদন করা হয় মূলত তিনটি গাণিতিক অপারেশন দ্বারা। এগুলো হলো যোগ, গুণ ও পূরক। এছাড়া অন্য সব গাণিতিক অপারেশন সম্পাদন করা হয় উল্লেখিত তিনটি গাণিতিক অপারেশনের সমন্বয়ে বা মিশ্রণে। যেমন বিয়োগ করা হয় যোগ ও পূরক ব্যবহার করে। এ কারণে লজিক গেইটকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১। মৌলিক গেইট ও

। যৌগিক গেইট

১। মৌলিক গেইটঃ যে সকল গেইট অন্য গেইটের সাহায্য ছাড়া তৈরি করা হয় সে সকল গেইটকে মৌলিক গেইট বলে। এ গেইটগুলাে এককভাবে গাণিতিক অপারেশন সম্পাদন করতে পারে। যৌক্তিক যােগ, যৌক্তিক গুণ ও যৌক্তিক পূরকের জন্য তিনটি মৌলিক গেইট আছে। তিন প্রকার মৌলিক গেইটগুলাে হলাে-

. অর গেইট (OR Gate) : যৌক্তিক যােগের জন্য।

২. এ্যান্ড গেইট (AND Gate) : যৌক্তিক গুণের জন্য।

৩. নট গেইট (NOT Gate) : যৌক্তিক পূরকের জন্য।

২। যৌগিক গেইটঃ যে সকল গেইট মৌলিক গেইটের সাহায্য ছাড়া তৈরি করা যায় না সে সকল গেইটকে যৌগিক গেইট বলে। তিনটি মৌলিক গেইট ব্যবহার করে চারটি যৌগিক গেইট তৈরি করা হয়। এগুলাে হলাে-

১. ন্যান্ড গেইট (NAND Gate) : AND গেইটের ও NOT গেইটের সমন্বয়ে তৈরি।

২. নর গেইট (NOR Gate)

একটি NOR গেট একটি OR গেট ও একটি NOT গেটের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে একটি OR গেটের আউটপুট একটি NOT গেটের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চূড়ান্ত আউটপুট সিগন্যাল তৈরি করে। এর লজিক চিত্রগুলি নিচে দেখানো হল–

NOR গেটের সত্যক সারণি :

৩. এক্সঅর গেইট (XOR Gate) : AND গেইট, NOT গেইট ও OR গেইটের সমন্বয়ে তৈরি।

৪. এক্সনর গেইট (XNOR Gate) : XOR গেইটের সাথে NOT গেইট মিলিয়ে তৈরি হয়।

Logic Gates

 

বিভিন্ন প্রকার গেইটের বিবরণ (Description of Different Gates)

নিচে বিভিন্ন প্রকার গেইটের বর্ণনা দেওয়া হলো–

অর গেইট (OR Gate)

এ গেইটে দুই বা দুয়ের অধিক ইনপুট থাকতে পারে, কিন্তু আউটপুট থাকবে একটি। যেকোন একটি ইনপুট সত্য হওয়ার কারণে আউটপুট সত্য হবে। এ গেইটে দুই বা ততোধিক সুইচ সমান্তরালে থাকে।

অ্যান্ড গেইট (AND Gate)

এ গেইটে দুই বা দুয়ের অধিক ইনপুট এবং একটি আউটপুট থাকে। সবগুলো ইনপুট সত্য হলে আউটপুট সত্য হবে। যদি দুটি ইনপুট A এবং B হয় তাহলে এর আউটপুট হবে, Y = A.B। এক্ষেত্রে ইনপুট A = 1 এবং B = 1 হলে কেবল আউটপুট Y = 1 হবে।

নট গেইট (NOT Gate)

এ গেইটে একটি ইনপুট ও একটি আউটপুট থাকে। ইনপুটের বিপরীত হবে আউটপুট। সেজন্য এ গেইটকে ইনভার্টার (Inverter) বলা হয়। এ গেইটে ইনপুট সত্য হলে আউটপুট মিথ্যা, আর যদি ইনপুট মিথ্যা হয় তাহলে আউটপুট সত্য হয়।

 

ন্যান্ড ও নর গেইটের সর্বজনীনতা

কোন গেইটের সর্বজনীনতা বলতে বোঝানো হয় ঐ গেইট দিয়ে তিনটি মৌলিক গেইটের প্রত্যেকটি তৈরি করা সম্ভব। আর মৌলিক তিনটি গেইট দিয়ে যেহেতু সকল যৌগিক গেইট তৈরি করা হয় তাই সবল গেইটই ঐ গেউটি দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ ঐ গেইট দিয়ে সর্বজনীনভাবে সকল বুলিয়ান ফাংশনের কাজ করা সম্ভব। অর, অ্যান্ড এবং নট-এ তিনটি মৌলিক গেইটের সমন্বয়ে যেকোন যুক্তিক বর্তনী (Logic Circuit) তৈরি করা সম্ভব। আবার, শুধু ন্যান্ড গেইট দিয়েও যেকোন বর্তনী তৈরি করা সম্ভব। কারণ, ন্যান্ড গেইট দিয়ে অর, অ্যান্ড এবং নট গেইট বাস্তবায়ন সম্ভব। তেমনি নর গেইট দিয়েও যেকোন বর্তনী বাস্তবায়ন সম্ভব। এটি ন্যান্ড ও নর গেইটের সর্বজনীনতা নামে পরিচিত।

 

লজিক গেইট (Logic gate) সম্পর্কিত আরও কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

১। লজিক অর্থ কি? (What is meaning of Logic?)

উত্তর : যুক্তি।

২। ইউনিভার্সাল লজিক গেইট কি?

উত্তর : ইউনিভার্সাল লজিক গেট বা সার্বজনীন লজিক গেট হল সেইসমস্ত গেট, যেগুলি ব্যবহার করে সবকটি মৌলিক গেট বা প্রাথমিক গেট (OR,AND ও NOT) তৈরি করা যায়। দুটি ইউনিভার্সাল গেট রয়েছে। সেগুলি হল – ১.NOR গেট এবং ২.NAND গেট।

৩। মৌলিক লজিক গেইট কয়টি ও কি কি?

উত্তর : ৩টি।

OR gate কি?

উত্তর : OR gate হচ্ছে যৌক্তিক যোগের গেইট।

XOR গেইটের পূর্ণরূপ কি?

উত্তর : XOR গেইটের পূর্ণরূপ হলো– Exclusive Or gate.

ডিজিটাল লজিক কত প্রকার?

উত্তর : ডিজিটাল লজিক ৩ প্রকার।

সার্বজনীন গেইট কাকে বলে? (What is called Universal gate?)

উত্তর : যে লজিক গেইট দ্বারা মৌলিক লজিক গেইটসহ অন্যান্য সকল লজিক গেইট বাস্তবায়ন করা যায় তাকে সার্বজনীন গেইট বলে। যেমন- নর গেইট, ন্যান্ড গেইট।

 

OR গেইটের তুলনায় XOR গেট এর সুবিধা– ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : OR গেইট এর তুলনায় X-OR গেইট এর সুবিধা নিচে আলোচনা করা হলো–
অর গেইট হচ্ছে যৌক্তিক যোগের গেইট। আউটপুটটি ইনপুটগুলোর যৌক্তিক যোগফলের সমান। যৌক্তিক যোগ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা যায় না। কিন্তু X-OR গেইট কোন বেসিক গেইট নয় কারণ এটি অ্যান্ড, অর ও নট ইত্যাদি গেইটের সাহায্যে তৈরি করা হয়। আবার এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) বা একীভূত সার্কিট আকারেও পাওয়া যায়। এই গেইটের মাধ্যমে বিভিন্ন বিট তুলনা করে আউটপুট সংকেত পাওয়া যায় অর্থাৎ এই গেইটের ইনপুট সংকেতের মান বিজোড় সংখ্যক ‘১’ হলে আউটপুট সংকেত ‘১’ হয় অন্যথায় আউটপুট সংকেত ‘০’ হবে। সার্কিট ছোট করার কাজেও এই X-OR গেইট ব্যবহার করা হয়। তাই OR গেইট এর তুলনায় X-OR গেইট এর সুবিধা বেশি।

লজিক গেইট কাকে বলে? লজিক গেইট কত প্রকার ও কি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top