সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে? সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজের মধ্যে পার্থক্য কি?

প্রিয় পাঠক, এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে এবং সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজ এর মধ্যে পার্থক্য কি?; সে সম্পর্কে। চলুন জেনে নেই।

সার্কিট ব্রেকার কি বা কাকে বলে? (What is called Circuit Breaker in Bengali/Bangla?)

সার্কিট ব্রেকার হলো একটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালিত বৈদ্যুতিক সুইচ, যা একটি ওভারলোড বা শর্ট সার্কিট থেকে অতিরিক্ত কারেন্ট এর কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে একটি ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটকে রক্ষা করে। এটি চালু অবস্থা ত্রুটিযুক্ত সার্কিটকে কারেন্ট প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। ফিউজের পরিবর্তে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়। ফিউজ একবার নষ্ট পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।

ইলেকট্রিক্যাল দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে নিরাপত্তার জন্য বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়।

 

সার্কিট ব্রেকার কত প্রকার ও কি কি? (How many types of Circuit Breaker?)

সার্কিট ব্রেকার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন–

নিম্ন ভোল্টেজের সার্কিট ব্রেকার (Low Voltage Circuit Breaker) : এ ধরনের সার্কিট ব্রেকারে বাড়ি-ঘরের ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি যেমন : এসি, টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদির সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। ব্যবসা এবং শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যবহার রয়েছে।

ম্যাগনেটিক সার্কিট ব্রেকার : এ ধরনের সার্কিট ব্রেকারে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়। যখন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের সলিনয়েডের ভিতর দিয়ে পূর্ব নির্ধারিত কারেন্টের চেয়ে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন বর্তনীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মিডিয়াম ভোল্টেজ সার্কিট ব্রেকার (Medium Voltage Circuit Breaker) : এ ধরনের সার্কিট ব্রেকার 1 – 72KV এ কাজ করে। এগুলো বিদ্যুতের সাবস্টেশনে ব্যবহার করা হয়।

হাইভোল্টেজ সার্কিট ব্রেকার (High Voltage Circuit Breaker) : বৈদ্যুতিক পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এর সুরক্ষার জন্য এ ধরনের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়। 72.5 KV বা তার চেয়ে বেশি ভোল্টেজে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

MCB ও MCCB সার্কিট ব্রেকারের মধ্যে পার্থক্য : অধিকাংশ মানুষ MCB এবং MCCB মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত। যদিও উভয়ই সার্কিট ব্রেকার। প্রকৃতপক্ষে দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য রয়েছে, যা তাদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা। MCB অর্থ হলো Miniature Circuit Breaker, আর MCCB অর্থ হলো Molded Case Circuit breaker। দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো তাদের ক্ষমতা। তাদের পাওয়ার ক্ষমতা বিচার করে MCB প্রধানত হাউজ ওয়্যারিং বা ছোট ইলেকট্রনিক সার্কিটের মতো স্বল্প শক্তির প্রয়োজনীয়তার জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে MCCB উচ্চ ক্ষমতার ইলেকট্রনিক লোডে পাওয়ার সরবরাহ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। MCB ১০০ অ্যাম্পিয়ারের বেশি পাওয়া যায় না, অন্যদিকে MCCB ২৫০০ অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত পাওয়া যায়। MCB কারেন্ট সাপ্লাই ক্ষমতা নির্দিষ্ট, অন্যদিকে MCCB অ্যাম্পিয়ার এডজাস্ট করা যায়।

 

সার্কিট ব্রেকার কিভাবে কাজ করে? (How to work Circuit Breaker?)

যেভাবে কাজ করে : প্রথমে সার্কিট ব্রেকার বর্তনীর ত্রুটি উদঘাটন করে। অতঃপর সার্কিট ব্রেকারের ভিতরে যে কন্টাক্ট বা বর্তনী সংযোগ থাকে তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তনীতে সংযুক্ত তড়িৎ যন্ত্রপাতি ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

 

সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অফ হয় কেন?

সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অফ হয়ে যায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে। তড়িৎ বর্তনী বা তড়িৎ যন্ত্রকে ওভারলোড বা শর্ট সার্কিটের কারণে ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য স্বয়ংক্রিয় একটি সুইচ ব্যবহার করা হয়। এই সুইচটি সার্কিট ব্রেকার নামে পরিচিত।

শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুতের অনিয়মিত প্রবাহ হলে বা ওভারলোড হলে সার্কিট ব্রেকার প্রথমে তা চিহ্নিত করে এবং পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তনী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তনীতে সংযুক্ত তড়িৎ যন্ত্রপাতি ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

 

সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজ এর মধ্যে পার্থক্য কি? (What is difference between Circuit Breaker and Fuse?)

সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজ এর মধ্যে পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো–

সার্কিট ব্রেকার (Circuit Breaker)

  • সার্কিট ব্রেকার Electromagnetism ও সুইচিং মূলনীতিতে কাজ করে।
  • সার্কিট ব্রেকার এর ভিতর দিয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলে Trip করে। কিন্তু ব্রেকার নষ্ট হয় না, আবার ব্যবহার করা যায়।
  • সার্কিট ব্রেকার এর সাথে Auxiliary contact থাকে।
  • সার্কিট ব্রেকারকে অন-অফ সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়
  • সার্কিট ব্রেকার ওভার লোড এবং শর্ট সার্কিট হলে কাজ করে।
  • সার্কিট ব্রেকারের দাম বেশি।

ফিউজ (Fuse)

  • ফিউজ এর মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, অতিরিক্ত তাপে তার গলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
  • ফিউজ এর ভিতর দিয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলে এর ভিতরে তার গলে যায়, অর্থাৎ ফিউজটি নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আবার ব্যবহার করা যায় না।
  • ফিউজ এর সাথে Auxiliary contact থাকে না।
  • ফিউজকে অন-অফ সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
  • ফিউজ ওভার লোড হলে কাজ করে।
  • ফিউজের দাম কম।

 

১। ফিউজের উপাদান কয়টি ও কি কি?

উত্তর : ফিউজের উপাদান তিনটি। যথা-

১। ফিউজ তার,

২। ফিউজ তারের বাহক

৩। বেস বা তলদেশ।

সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে? সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজের মধ্যে পার্থক্য কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top